নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 21 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজারের অস্থিরতা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রভাবে গত বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ২৭০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন।
ডিএসইর তথ্য বলছে, আলোচ্য সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট ২ হাজার ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেন। বিপরীতে তাদের মোট শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ০৭ লাখ টাকা। ফলে সামগ্রিক হিসাবে বছরের ব্যবধানে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থানে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুরো বছরজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সতর্ক কৌশল অবলম্বন করেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি অংশগ্রহণ প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত একটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন শেষে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তারা মৌলভিত্তি শক্তিশালী শেয়ারের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদেশি তহবিল প্রবাহ আরও জোরদার হতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটমুখী হচ্ছেন—যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালে পুনর্গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজার সংস্কার ও কারসাজি দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। তবে এসব পদক্ষেপের কারণে বাজারে কিছু সময় অস্থিরতা তৈরি হয় এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)-র মাধ্যমে নতুন তহবিল সংগ্রহের গতি কমে যায়।
ডিএসইর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত আট বছরের মধ্যে সাত বছরেই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক ছিল। কেবল ২০২৩ সালে ৬৪ কোটি টাকার নিট ইতিবাচক অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। যদিও ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশিরা শেয়ার ক্রয়ে সক্রিয় ছিলেন, বছরের শেষ দিকে তারা বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে মূলধন প্রত্যাহার করেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দেশের পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন ও বড় মূলধনী কোম্পানির ঘাটতি রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং বাজারকে গতিশীল করতে লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা জরুরি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো সরকারি কোম্পানি বাজারে আসেনি। তাই নতুন সরকারের কাছে আরও কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
Posted ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.